শ্রীমঙ্গলে এবার বসতঘরের সিলিংয়ে ১২ ফুটের অজগর

লোকালয়ে আসছে একের পর এক সাপ

শ্রীমঙ্গলে এবার বসতঘরের সিলিংয়ে ১২ ফুটের অজগর

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

১৪/০৮/২০২৬ ১২:৪৩:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে একের পর এক উদ্ধার করা হচ্ছে নানা প্রজাতির সাপ। অজগর থেকে শুরু করে বিষধর গোখরোসহ বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির সাপের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলতি মাসের শুরু থেকেই শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বাগান থেকে একাধিক সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের একটি বসতঘরের সিলিংয়ের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি বিশাল অজগর।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ৫ নম্বর পুল এলাকার বাসিন্দা রুশন আলীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। বিশাল আকৃতির সাপটি দেখে মুহূর্তেই আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ মাথার ওপর সিলিংয়ে সাপটির নাড়াচাড়া দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান 'বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন'-এর পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ।

সতর্কতার সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্য এবং প্রায় ১৬ কেজি ওজনের অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসে শ্রীমঙ্গল ও এর আশপাশের এলাকাগুলো থেকে সাপ উদ্ধারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি মাসেই অজগর, গোখরো, পদ্মগোখরো, দাঁড়াশ ও নানাবিধ সাপের লোকালয়ে চলে আসার খবর মিলছে। বন উজাড়, প্রাকৃতিক খাবারের সংকট এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে লোকালয়ে এসব বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।

সত্যতা নিশ্চিত করে শুক্রবার (১৪ অঅগষ্ট) বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান-উদ্ধার হওয়া অজগরটি বেশ বড় ছিল। লোকালয়ে চলে আসায় পরিবারটি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সাপটি সুস্থ অবস্থায় বন বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং পরে এটিকে লাউয়াছড়া কিংবা সংলগ্ন গভীর বনে অবমুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, লোকালয়ে কোনো বিষধর বা বন্যপ্রাণী দেখতে পেলে কেউ যেন আঘাত না করেন। আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের খবর দিলে সাপ ও মানুষ—উভয়ের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করা সম্ভব।

শাহিন আহমদ / রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad