শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
Led Bottom Ad

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

১৯/০৮/২০২৫ ২২:২৪:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দিনব্যাপী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার সিন্দুরখান, আশিদ্রোন ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। 


এসময় আশিদ্রোন ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বালু উত্তোলনের সরবরাহ পথ বন্ধ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, ‘এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।’ 


একইসঙ্গে বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য স্থানে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সব জনসাধারণকে নদী, পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষি জমির সুরক্ষার স্বার্থে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।  


উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এরপরও যদি কেউ অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইনের ৫(১) ধারায় বর্ণিত রয়েছে যে, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। এছাড়াও এ আইনের ৭(ক) ধারা অনুযায়ী- ক) উর্বর কৃষি জমির মাটি কাটা যাবে না; খ) বাণিজ্যিক উদ্দেশে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না; গ) কৃষি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি বিনষ্ট করা যাবে না; ঘ) পরিবেশ, প্রতিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সাধন করা যাবে না; ঙ) ড্রেজারের মাধ্যমে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। যাতে এ জমিসহ পার্শ্ববর্তী অন্য জমির ক্ষতি হয় বা ধসের উদ্ভব হয়। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের অনুর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন পঞ্চাশ হাজার টাকা হতে সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। 


উল্লেখ্য, ২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad