দিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

দিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

প্রথম ডেস্ক

১০/১০/২০২৬ ১০:৪৯:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজধানী নতুন দিল্লিকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে অন্তত ৩০০টির বেশি বিশেষ অডিও-ভিডিও ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে দিল্লি পুলিশ।

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও যন্তর মন্তরকে ঘিরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি রুখতে পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না দিলেও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুরো রাজধানীতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর সংলগ্ন প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী ও সাত স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের স্বার্থে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা প্রদানসহ শতাধিক ফটো ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ রুখতে দিল্লির গণপরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চরম কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে অন্তত ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। এছাড়া ৭৫টি মেইল-এক্সপ্রেসসহ মোট ২৫৪টি ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ ও কর্তব্য পথের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ভেতর মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

কঠোর এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে প্রশ্ন তোলেন, জনগণের আন্দোলনের দরুন ভোগান্তির বাহানা দিয়ে সরকার পুরো শহরের সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবিতে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনের পর ব্যাপক বিতর্ক ও তোপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় এবার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করতে ভিডিও নজরদারিতে বাড়তি অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad