থামছে না পাথর লুট-অস্তিত্ব হারাচ্ছে শাহ আরেফিন টিলা
Led Bottom Ad

থামছে না পাথর লুট-অস্তিত্ব হারাচ্ছে শাহ আরেফিন টিলা

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮/১১/২০২৫ ১৩:৩৩:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা আজ ধ্বংসের মুখে। শত শত বছরের ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা এই টিলা এখন অবৈধ পাথর উত্তোলনের কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে।


অভিযান চললেও থামছে না লুট

সম্প্রতি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করে। কিন্তু এবার লুটের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে শাহ আরেফিন টিলায়—যা একসময় “পাথরের খনি” নামে পরিচিত ছিল।


স্থানীয়দের দাবি, টিলার প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশ ইতিমধ্যে কেটে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের গায়ে দেখা দিয়েছে গভীর ক্ষত, মাটি ধসে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বাড়িঘর ও কৃষিজমি। প্রশাসনের অভিযান শেষ হতেই আবারও রাতের আঁধারে শুরু হয়েছে অবৈধ পাথর উত্তোলন।


পুলিশের অভিযানে পাঁচ ট্রাকভর্তি পাথর জব্দ

গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের অভিযানে মোট পাঁচটি ট্রাক ও ট্রাক্টরভর্তি পাথর জব্দ করা হয়। ট্রাকচালকরা পাথর ফেলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা পাথর বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান,শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাটিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাথর জব্দ করা হবে। এর আগে সাদাপাথরের ঘটনার পর কোম্পানীগঞ্জে ২৪ ঘণ্টা তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। এখনো এসব চৌকিতে পাথরবাহী যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই চলছে।


ঐতিহ্যের টিলায় আজ শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন

সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত শাহ আরেফিন টিলা এক সময় ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। প্রচলিত কাহিনিতে আছে—প্রায় ৭০০ বছর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) এখানে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই টিলার নামকরণ। আজ সেই টিলায় ইতিহাস নয়, গর্জে ওঠে পাথর ভাঙার শব্দ। টিলার বুক চিরে যখন ট্রাক্টর চলে, তখন হারিয়ে যায় প্রজন্মের স্মৃতি, পবিত্র স্থানের নিস্তব্ধতা।


স্থানীয়দের চোখে হতাশা ও ক্ষোভ

স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক জয়নাল আবেদিন জানান,“আমরা ছোটবেলা থেকে এই টিলায় খেলতাম, এখানে দরগাহে মানত দিতাম। এখন শুধু ধুলো উড়ে, পাহাড় কেটে নিচ্ছে তারা। মনে হয় আমাদের অস্তিত্বটাই তুলে নিচ্ছে।”


স্থানীয় তরুণ সজিব হোসাইন বলেন,“অভিযান হয়, কিন্তু কয়েকদিন পর সব আগের মতো হয়ে যায়। আমরা চাই এই টিলা বাঁচুক—এটাই আমাদের ইতিহাস।”


মানবিক ও পরিবেশগত আহ্বান

প্রকৃতি ধ্বংস মানেই মানুষের ভবিষ্যৎ ধ্বংস। শাহ আরেফিন টিলা কেবল পাথরের উৎস নয়—এটি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।


স্থানীয়দের দাবি , এখন থেকেই কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি,অবৈধ খনি শ্রমিকদের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের লোভ থেকে প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে।


রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad