জৈন্তাপুরে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় সাইদুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার আসামপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইদুল ওই গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছোট ছেলে এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক। নিহতের পরিবারের দাবি- সাইদুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস ধরে সাইদুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এই সময় তিনি প্রায়ই রাগারাগি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়তেন। এ কারণে পরিবার তাকে ঘরে নজরদারিতে রাখত। শনিবার সকালে হঠাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। বের হওয়ার সময় তার হাতে ছিল একটি কাঠের লাঠি। পথে বারেক নামে এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ সাইদুলকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তার নানা বাড়ির পেছনের একটি আমগাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক নারী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সাইদুলের গলায় লাল রঙের একটি শাড়ি দিয়ে ফাঁস দেওয়া ছিল। মরদেহের পাশে পাওয়া যায় প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি কাঠের লাঠি। ঘটনাস্থলে তার পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও কালো বেল্ট, তবে শরীরের অন্য অংশে কোনো কাপড় ছিল না।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা হতে পারে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, সাইদুল ছিলেন পরিশ্রমী ও সাধারণ একজন যুবক। কিন্তু মানসিক সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। পরিবার, সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাবই হয়তো এই তরুণের জীবন কেটে দিয়েছে অকালেই।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: