নামাজে বাধার অভিযোগে নিজের বিরুদ্ধেই মাইকিং, বানিয়াচংয়ে চাঞ্চল্য
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ঘটেছে এক অভিনব ও বিস্ময়কর ঘটনা। মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিচার না পেয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের বিরুদ্ধেই মাইকিং করিয়েছেন আজিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং শোনা যায়। মাইকিংয়ে জানানো হয়, ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লার আজিজুর রহমানকে মসজিদে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং আগামী ৯ জানুয়ারি যাত্রাপাশা মোকাম হাঁটি মসজিদে তার বিচারের দিন ধার্য করা হয়েছে।
মাইকিংয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসে ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মামুন মিয়ার। তিনি মাইকিং করা ব্যক্তি মুনাফ মিয়াকে ডেকে আনলে তিনি জানান, আজিজুর রহমান নিজেই তাকে দিয়ে এই প্রচারণা করিয়েছেন।
পরবর্তীতে চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু মিয়াকে। তদন্তে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ইমামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমিটির পক্ষ থেকে আজিজুর রহমানকে নামাজে বাধা দেওয়া কিংবা মাইকিং করানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মাইকিং শুনে মসজিদ কমিটিও হতভম্ব হয়ে পড়ে।
ইউপি সদস্য বাবলু মিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুর রহমান স্বীকার করেন, নামাজ নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ এবং বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে মাইকিং করিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন, এলাকার মানুষ যেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি জানতে পারে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তদন্তের সব তথ্য অবগত হয়েছেন।
এদিকে বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফেজ শিব্বির আহমদ আরজু ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করেন এবং মসজিদ কমিটির সঙ্গে কথা বলে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মামুন মিয়া রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের জানান, এটি আজিজুর রহমানের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে করা কাজ। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: