তীব্র শৈত্যপ্রবাহে মাধবপুরে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকিতে
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বোরো ধানের আবাদে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা, সূর্যের আলো না থাকা এবং স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বুল্লা, ছাতিয়াইন, নোয়াপাড়া ও শাহজাহানপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বীজতলার চারা গাছ হলদে হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চারাগাছ পচে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ চারা নষ্ট হওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, “প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বীজতলা দিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরে এত ঠান্ডা পড়ছে যে চারাগাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না। অনেক জায়গায় পাতা হলদে হয়ে গেছে, কিছু জায়গায় একেবারে পচে যাচ্ছে। আবার নতুন করে বীজতলা দিলে খরচ সামলানো কঠিন হবে।”
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাক আহমদ বলেন, “বোরো ধান সময়মতো রোপণ না করতে পারলে ফলন কমে যায়। কিন্তু এই ঠান্ডায় চারা তোলার মতো অবস্থায় নেই। রোদ না উঠলে বীজতলা বাঁচানো সম্ভব হবে না। সার, বীজ আর শ্রমিকের দাম আগেই বেশি—এখন যদি ক্ষতি হয়, তাহলে বোরো আবাদে লোকসান গুনতে হবে।”
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও টানা কুয়াশা ও ঠান্ডায় তেমন সুফল মিলছে না। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার পুরোপুরি বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ফসল নষ্ট হলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।”
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “গত বছর ঠান্ডা ছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সারাদিন কুয়াশা থাকে, রোদ ওঠে না। বীজতলা নষ্ট হলে পুরো এলাকায় এর প্রভাব পড়বে।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের বীজতলা খড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, কুয়াশা কাটার পর জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: