প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের তদন্তের আশ্বাস
Led Bottom Ad

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের তদন্তের আশ্বাস

ঢাকা অফিস

১২/০১/২০২৬ ০৮:০৬:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অভিযোগগুলো তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, চাকরিপ্রার্থীরা পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। তবে অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়া গেলে ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও অনিয়মের কারণে দুটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল।

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা হয়েছে—এটি অস্বীকার করা যাবে না। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যেসব প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এতে প্রমাণিত হয় যে প্রশ্নফাঁস হয়নি। এরপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা হয়েছিল, তবে এটি প্রশ্নফাঁস নয়। এ ধরনের অপরাধে ২০৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে। এত বড় নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারকচক্রের অপতৎপরতা অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে রোববার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। তারা বিভিন্ন স্লোগানে অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে ধরেন।

আন্দোলনকারীরা পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। দাবিগুলো হলো— সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া, সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন, স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে তার আওতায় সব পরীক্ষা গ্রহণ ও একই দিনে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা ও প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

এছাড়া পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে তথাকথিত ‘ডিভাইস পার্টি’। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তারা পরীক্ষার্থীদের ডিভাইসের মাধ্যমে সহায়তা দেয়। ডিভাইস ব্যবহার করে নকলের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়া ২০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ এবং রংপুরে ২ জন রয়েছেন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad