মাধবপুরে জগন্নাথ মন্দিরে চরম অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তি বেহাত হওয়ার শঙ্কা
Led Bottom Ad

মাধবপুরে জগন্নাথ মন্দিরে চরম অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তি বেহাত হওয়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাধবপুর

১৭/০১/২০২৬ ১৭:৫৮:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গিলাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দির ও আখড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক পরিচালনা ও নজরদারির অভাবে মন্দিরের নামে থাকা দিঘি ও বিস্তীর্ণ জমিসহ বিপুল সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ।


স্থানীয়দের ভাষ্য, মন্দির ও আখড়ার নামে থাকা জমি, দিঘি ও অন্যান্য সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। ওই অর্থ দিয়ে মন্দির ও আখড়ার সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং পুরোহিত ও যোগীদের ন্যায্য ভাতা নিশ্চিত করা যেত। তবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতার অভাবে এসব কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।


মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীরা বর্তমানে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের আয় থাকার পরও তারা নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন না। এতে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, আখড়া, জমি ও দিঘি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য অর্থ সঞ্চয় করা যেত এবং সেই অর্থ দিয়ে মন্দির ও আখড়ার উন্নয়ন সম্ভব হতো। কিন্তু পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।


এ বিষয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বলেন, জগন্নাথ মন্দির ও আখড়া সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে মন্দির ও আখড়ার সম্পত্তির ওপর কিছু মানুষের লোভ পড়েছে। পরিচালনার নামে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছেন। তিনি অতীতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরীক্ষা করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।


হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মন্দির ও আখড়ার অবশিষ্ট সম্পত্তিও দখল ও বেহাত হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, মন্দির সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad