দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
মাটিয়ান হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ আলমখালী ক্লোজারে এখনো গঠন হয়নি পিআইসি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আলমখালী ক্লোজারে এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়নি। ফলে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে উপজেলায় অন্যান্য ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের পিআইসি গঠন সম্পন্ন হলেও আলমখালী ক্লোজারটি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অথচ পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানির প্রথম আঘাত এই ক্লোজার দিয়েই মাটিয়ান হাওরে প্রবেশ করে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখনো সেখানে এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। কাজ দ্রুত শুরু না হলে আগাম বন্যায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত। নির্ধারিত সময়ের ৩৩ দিন পেরিয়ে গেলেও আলমখালী ক্লোজারসহ ৩৩টি পিআইসির আওতায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়নি। এ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ৮৭টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলার হাওর এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ ইসলাম বলেন,“আলমখালী বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আমরা চরম উদ্বেগে আছি। আগাম বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো হাওরের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন,“আলমখালী ক্লোজারের জন্য এখনো কেউ পিআইসির আবেদন করেননি। এখানে মাটির সংকট রয়েছে। আমরা স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। খুব দ্রুত এ বাঁধের কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: