যাদুকাটায় অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে অদ্বৈত জন্মধাম ও অর্ধশত কোটি টাকার প্রকল্প
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত শ্রী শ্রী অদ্বৈত জন্মধাম মন্দির কমপ্লেক্স, পুণ্যার্থীদের স্নানঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণাধীন সড়ক ও সেতু এখন বালুখেকোদের কবলে। বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও এলাকায় গভীর রাতে ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলনের ফলে অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় স্থাপনা ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় দুই বাসিন্দা কানন বন্ধু রায় ও সেতু রঞ্জন রায় নিজেদের জমির মালিকানা দাবি করে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাথে মৌখিক চুক্তিতে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অদ্বৈত জন্মধাম কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক অদ্বৈত রায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জানানো হয়, বর্তমানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর পাড় বাঁধাই ও দুটি স্নানঘাট নির্মাণের কাজ চলছে, যা নদীর পাড় কাটার ফলে যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংযোগ সড়ক ও বক্স কালভার্টও চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেতু রঞ্জন রায় মৌখিকভাবে জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অপর অভিযুক্ত কানন বন্ধু রায়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, এই নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দশকের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা স্নানঘাটের আয়োজন ও যাতায়াত ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অদ্বৈত জন্মধাম সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: