নির্ধারিত সময় শেষ পর্যায়ে
সুনামগঞ্জের অধিকাংশ হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শেষ হয়নি
সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ সমাপ্ত করার নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে এখনও মাটির কাজ শেষ হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত শুক্রবার ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার অন্তত ৪০টি প্রকল্প সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাঁধেই এখনও মাটি ফেলার কাজ চলছে এবং অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারে (ভাঙন) টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বর্তমানে ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করলেও হাওর আন্দোলনের নেতা ও কৃষকরা এই তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। বিশেষ করে সোনামড়ল, চন্দ্র সোনারথাল, হালি ও শনির হাওরের বিভিন্ন প্রকল্পে মাটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকা এবং অনেক বাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন হাওরবাসী।
বাঁধের কাজের এই ধীরগতির পেছনে অর্থ সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, কাজের বড় অংশ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বিল পাওয়া গেছে, যার ফলে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জামালগঞ্জের হালি হাওর ও শনির হাওরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দিলেও সেখানে বাঁশ-বস্তা দিয়ে প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, "এ উপজেলার কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশের বেশি নয়; পাহাড়ি ঢল এলে নিশ্চিতভাবেই হাওরবাসী বিপদে পড়বে।"
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার ৭২ শতাংশ কাজ সমাপ্তির দাবি করে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪৭ কোটি টাকা অর্থ ছাড় হয়েছে এবং বাকি বিল দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এ বছর সুনামগঞ্জের ৪২টি হাওরে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: