বিলুপ্তির পথে ‘খাড়িয়া’ ভাষা : শেষ ভরসা শ্রীমঙ্গলের দুই বোন
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘খাড়িয়া’ ভাষা এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে, যা বর্তমানে কেবল দুই বৃদ্ধা বোনের কণ্ঠেই জীবন্ত রয়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া চা বাগানের শ্রমিক ভেরোনিকা কেরকেটা (৮১) ও তাঁর বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা (৭৬) হলেন এ দেশের শেষ দুই ব্যক্তি, যারা শুদ্ধভাবে এই ভাষায় কথা বলতে পারেন।
ভাষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই দুই বোনের মৃত্যুর সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে অতি বিপন্ন এই ভাষাটি। মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও খাড়িয়া ভাষার ব্যবহার সময়ের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারখানেক মানুষ সাদ্রি-বাংলা ও দেশোয়ালি মিশ্রিত ভাষায় কথা বললেও প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা কেবল ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনাই জানেন। ২০১৭ সালে ‘বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার’ ও স্থানীয় যুব সংঘের মাধ্যমে এই ভাষা সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা স্থায়ী হয়নি।
ভেরোনিকা কেরকেটা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, ৫ বছর আগেও তাঁর পরিবারে এই ভাষার চর্চা ছিল, কিন্তু এখন কেবল তাঁরা দুই বোনই অবশিষ্ট আছেন। রাজঘাট ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি পর্যায়ে দ্রুত কোনো একাডেমি বা সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ না করলে এই সমৃদ্ধ ভাষাটি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন এ বিষয়ে জানান, খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষায় প্রশাসন কাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: