জৈন্তাপুরে সরকারি খাল ভরাট করে হাউজিং প্রকল্প
একদিকে গো’পাট,অন্যদিকে ছড়া। এর উপর ভর করেই গড়ে উঠা জৈন্তাপুরের ঠাকুরের মাটি এলাকা। গো’পাট এখনও আছে। তবে বিলিন হয়ে গেছে ছড়া। ভূমি দস্যু চক্র আর ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের যোগসাজসে ছড়ার বুকে ফেলা হয়েছে মাটি। ফলে খালের চিহ্ন মুছে গেছে। যদিও খাল/ছড়া হিসেবে এখনও লাল নিশানা বিদ্যমান। এর আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে চিরতরে। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকারি ছড়ায় মাটি ভরাট করে রাস্তা দেখিয়ে একটি চক্র কোটি কোটি টাকার হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলেছেন। পানি নিস্কাশনের জন্য ছড়ার উপর মাটি ভরাট করে নিজের নামে একটি প্রকল্প গড়ে তোলেছেন শাহজালাল উপশহর ডি ব্লকের মাল্টিপ্ল্যান সিটির বাসিন্দা ডা. মো. ইয়াছির আরাফাত এবং তাবাসুম চৌধুরী। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে ঠাকুরের মাটি এলাকায় এমন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকার যেখানে বন্ধ জলাশয় সংস্কার ও খাল কর্মসূচী গ্রহণ করেছে, সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা কোন অদৃশ্য ক্ষমতায় নিয়ম বহির্ভুত কাজ সম্পন্ন করলেন?
এদিকে. ইয়াছির আরাফাত এবং তাবাসুম চৌধুরী কর্তৃক সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবরে একটি আবেদন দাখিল করেন ঠাকুরের মাটি এলাকার মৃত হাজী আছদ্দর আলীর ছেলে কামরান, মৃত আবদুর রহিমের ছেলে শাহাদাৎ রহিম, শওকত আলীর ছেলে সায়েম ও তাইয়ার। আবেদনের প্রেক্ষিতে গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবদুল লতিফ ৩১.৮৬.৩৬৯৪.০০৩.০০০.১৬.০০১১.২৫.১০১২ নং স্বারকে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী পক্ষকে ১৫ ডিসেম্বর তারিখে সরেজমিন উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।
এসময় ঠাকুরের মাটি জে এল নং ১৫৩ নং ঠাকুরের মাটি মৌজার বিএস খতিয়ান নং-১, বিএস দাগ নং ৬৫৫ এর ০.১৬ একর জায়গা ছড়া ও পানি নিস্কাশনের রাস্তা উল্লেখ থাকলেও সার্ভেয়ার ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি রাস্তা হিসেবে বর্ণনা করে। এ অবস্থায় পুরো এলাকার কৃষিভূমি এখন হুমকীর মুখে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন বন্যায় পুরো এলাকা তালিয়ে যাবার অশঙ্কা অন্যদিকে কৃষিভূমি গুলো হয়ে পড়বে অস্তিস্থহীন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. ইয়াছির আরাফাত বলেন, রাস্তা নাকি খাল-সেটি খতিয়ে দেখবে ভূমি অফিস। তিনি বলেন,ভূমি অফিসের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই ছড়া ভরাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব এর সরকারি সেল ফোন নাম্বারে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: