সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সিলেটের যেসব অঞ্চলে ঈদ উদযাপন
সিলেটের সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিলিয়ে এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। যদিও কিছু অঞ্চলে ঈদ উদযাপন অন্য দিনের সাথে মিল রেখে হয়েছে, তবুও উৎসবের আনন্দ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং সম্প্রিতির বার্তা সব জায়গায় একইভাবে ফুটে উঠেছে।
সুনামগঞ্জে আগাম ঈদ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, ধর্মপাশাসহ আশপাশের কিছু গ্রামের মুসল্লিরা সকাল ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন আমতৈল জামে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি গ্রাম তৈলী রজনী লাইনেও শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
ধর্মপাশা উপজেলার সুরেশ্বরী দরবার শরিফের অনুসারী ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন। এই গ্রামের মধ্যে রয়েছে দশধরী, উত্তরপাড়া, সৈয়দপুর, রাধানগর, কান্দাপাড়া, গাছতলা, জামালপুর, রাজনগর, মেউহারী, বাহুটিয়াকান্দা, মগুয়ারচর ও মহদীপুর।
মুসল্লিরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ আদায় শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।
মৌলভীবাজারে ঈদের আনন্দ
মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। এখানে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী শতাধিক মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
নামাজের পরে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারা মানবতার কল্যাণ, বৈশ্বিক সংকট নিরসন এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের জন্য দোয়া করেন।
স্থানীয়রা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন হলেও মূল চেতনা একই—আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি। এই আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
ঈদ উদযাপন এসব অঞ্চলে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্য এবং আনন্দের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেছে, যা ঈদের আসল মাহাত্ম্যকে আরও উজ্জ্বল করে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: