ঈদের দিনে সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষ, আহত শতাধিক
ঈদের দিনে সুনামগঞ্জের শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলায় পৃথক সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং গুরুতর অবস্থার চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ মার্চ) শাল্লা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ইয়াড়াবাদ, কান্দোকলা, ইচাকপুর, কাশীপুর ও চন্ডিপুর গ্রামে তিনটি পৃথক সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। স্থানীয়রা জানান, দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে ইয়াড়াবাদ ও কান্দোকলায় ২০ জন,ইচাকপুরে ১৫ জন আহত ও কাশীপুর ও চন্ডিপুরে আরও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
শাল্লা থানার এসআই সঞ্জয় কুমার সরকার ও এএসআই ফুলন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
এদিকে একই দিনে জামালগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া কানাইখালী এলাকায় হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বাঁধ কাটা নিয়ে শান্তিপুর, সেলিমগঞ্জ ও কালাগুজা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায় বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাতীয় পরিষদ সদস্য নুরুল হক আফিন্দী বলেন, কানাইখালী নদীর খনন ছাড়া হাওরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উভয় উপজেলায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। শাল্লা ও জামালগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে দুই উপজেলার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: