শাল্লায় বাঁধ দুর্নীতির বলি কৃষক: উত্তর ছায়ার হাওরে ২০০ একর জমি পানির নিচে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার উত্তর ছায়ার হাওরের কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন এখন দুর্নীতির বলি হয়ে বিষাদে রূপ নিয়েছে। উপজেলা সদর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে নির্মিত একটি স্থায়ী বাঁধে চরম অনিয়ম ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থার কারণে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ একর ধানি জমি তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই বছর ধরে নির্মাণাধীন এই বাঁধে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সামান্য আঘাতেই উঠে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিসের এত কাছে এমন লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বিকার। উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মূল নকশায় দুটি স্লুইস গেট থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা হয়নি; উল্টো মাটি ভরাট করে পানির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে শত শত ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে শাল্লা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই সংকটের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী ওবায়দুল হকের অনুপস্থিতি ও ফোন রিসিভ না করায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি না নামলে এবং বাঁধের কাজের মান নিশ্চিত করা না হলে তাঁরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন। বর্তমানে হাওরের মাওলানা আবুল কাশেম ও জহিরুল ইসলামসহ কয়েকশ কৃষক তাঁদের ঘাম ঝরানো ফসলের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: