ধর্মপাশায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে শিশুর মৃত্যু: হাসপাতাল ভাঙচুর ও চিকিৎসককে মারধর
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অবহেলায় ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে পিটিয়ে আহত করেছে। গতকাল রোববার (২২ মার্চ) রাতে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত শিশু ফারাবি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বগারপাছুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মানিক মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সর্দি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রোববার দুপুরে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা রঞ্জন কিশোর চাকলাদার তাৎক্ষণিক সেবা না দিয়ে ৪০ মিনিট দেরি করেন। পরবর্তীতে চারজন চিকিৎসক চিকিৎসা দিলেও শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বিকেলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের প্রবেশমুখেই শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে আবার জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা জরুরি বিভাগে ঢুকে রঞ্জন কিশোর চাকলাদারকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধর করে এবং হাসপাতালের আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে।
শিশুটির চাচা শেখ চান অভিযোগ করেন, "জরুরি বিভাগের ডাক্তার এবং নার্সদের বারবার অনুরোধ করলেও তাঁরা অবহেলা করেছেন; সঠিক সময়ে অক্সিজেন ও নেবুলাইজার না দেওয়ায় আমার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে।"
তবে অভিযুক্ত চিকিৎসা সহকারী ও নার্সরা এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁরা চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবা দিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবীর সরকার জানান, চিকিৎসার কোনো অবহেলা হয়েছে কি না তা ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অবগত করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: