তাহিরপুরে মুক্তিমঞ্চে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ট্যাকেরঘাট মুক্তিমঞ্চে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৫নং সেক্টরের সাব-সেক্টর হিসেবে পরিচিত এই ট্যাকেরঘাট মুক্তিমঞ্চটি দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে স্বাধীনতার স্মৃতি বহন করে আসছে। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে লোহার তৈরি মূল মুক্তিমঞ্চটি জরাজীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে সেখানে বালু-সিমেন্ট দিয়ে উঁচু করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে মুক্তিমঞ্চের নামটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মুক্তিমঞ্চের নির্দিষ্ট স্থানে প্রাচীর না থাকায় ভূমি দখলকারীদের নজরে পড়ছে এলাকাটি। অভিযোগ রয়েছে, কেউ টিনের ঘর বা গবাদিপশুর খোঁয়াড় নির্মাণের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো হলো—মুক্তিমঞ্চ ঘিরে প্রাচীর নির্মাণ, শহীদ সিরাজের কবর সংরক্ষণ ও শহীদ মিনার স্থানান্তর করে মুক্তিমঞ্চের পাশে নির্মাণ।
বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, অনেক সহযোদ্ধা ইতোমধ্যে পরপারে চলে গেছেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, মুক্তিমঞ্চের সুরক্ষার কাজটি দেখে যেতে চাই।”
২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালবেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এতে অংশ নেন তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশীষ আচার্য, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আশীষ চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পরে সকাল ১১টায় মুক্তিমঞ্চ প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভার আগে পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশীষ আচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রৌজ আলী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, শ্রীপুর ডিহিভাটি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আশীষ চক্রবর্তী, ট্যাকেরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মস্তুজ আলী, ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিপন, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলকাস উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
তাহিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রৌজ আলীর সভাপতিত্বে এবং মুক্তির সন্তান ফারুক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছোরান, মতিন, নরসাদ মিয়া, নূরুল ইসলাম, আক্কল আলী, বদ মিয়া, সুজাপর তালুকদার, কুদরত আলী, আবুল হোসেন, শাহানূর, আব্দুল করিমসহ অনেক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: