অব্যবস্থাপনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
মর্মান্তিক ঈদযাত্রা: ১৩ দিনে নিহত ৩ শতাধিক
উৎসবের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় ঝরেছে অসংখ্য প্রাণ; বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৩ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯ শতাধিক যাত্রী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনাটি ঈদযাত্রার এই মর্মান্তিকতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান মতে, ১৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৩০৪টি দুর্ঘটনায় ৩০৯ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসেবে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৩৪২টি দুর্ঘটনায় ২৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ছুটি বাড়িয়ে সাতদিন করা হলেও সমন্বয়হীনতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল, বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে তদারকির অভাবে এই ‘মৃত্যুর মিছিল’ থামানো যাচ্ছে না, যাকে তারা স্রেফ দুর্ঘটনা না বলে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে গিয়ে রেল ও নৌপথেও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে; ১৮ মার্চ বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ২১ ঘণ্টা বন্ধ থাকা এবং সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে যাত্রী নিহতের ঘটনা এর প্রমাণ। এছাড়া ঈদের দিন কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ২৬ জনের সলিল সমাধি দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান ও আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, ঢাকাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কারণে অল্প সময়ে দেড় কোটি মানুষের গ্রামে ফেরার চাপ পরিবহন খাত সামলাতে পারছে না, যার সুযোগ নিয়ে মালিক-শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য ও অতিরিক্ত ট্রিপের প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে নামানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের অভাব এবারের ঈদযাত্রাকে গত বছরের তুলনায় অধিক প্রাণঘাতী করে তুলেছে; ফিরতি যাত্রা এখনও অব্যাহত থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: