সুনামগঞ্জে সড়ক সংস্কারে ৬ হাজার বৃক্ষ কর্তন: ২৫ কোটির গাছ মাত্র ১ কোটিতে বিক্রির অভিযোগ
সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজের সুবিধার্থে প্রায় ৬ হাজার ৪০৯টি মূল্যবান গাছ 'পানির দরে' বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ বনবিভাগের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বৃক্ষ ব্যবসায়ী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, নিলামকৃত এসব গাছের বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হলেও তা মাত্র ১ কোটি ৯ লক্ষ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই বিশাল অংকের রাজস্ব ক্ষতি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে মেহগনি, আকাশমনি, জারুল, কড়ই ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ এবং পাগলা-আউশকান্দি ও সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য এই গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বনবিভাগ ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করলে টাঙ্গাইলের মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজ ১১টি লট এবং মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলী ৪টি লট পান। শিমুল এন্টারপ্রাইজ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের জন্য মাত্র ৮৯ লক্ষ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা এবং মোসাইদ আলী দেড় হাজার গাছের জন্য ১৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা জমা দেন। কাঠ ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিটি পরিপক্ক গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলেও গড়ে প্রতিটি গাছ মাত্র ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার এবং সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল এই নিলাম প্রক্রিয়াকে 'শুভঙ্করের ফাঁকি' ও 'ভয়াবহ দুর্নীতি' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, বনবিভাগ বাজারদর অনুসরণ না করে এবং গাছের বেড় যথাযথভাবে না মেপে ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দিয়ে সরকারকে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ কেটে নিয়ে গেছে। যদিও মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি শামীম আহমদ দাবি করেছেন যে, সরকারি বিধি মেনেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তারা দরপত্র পেয়েছেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে ইঙ্গিত করলেও সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: