সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা: ফসল রক্ষায় আধাপাকা ধান কাটছেন কৃষকরা
উজানে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় জেলার বিভিন্ন হাওরে আধাপাকা বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে জলমগ্ন জমিতে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে অনুপযোগিতা এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কয়েক লাখ কৃষক চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
ভারতের মেঘালয় ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতার সতর্কবার্তা জারি করেছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, মেঘালয়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান পুরোপুরি পাকতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু নিচু এলাকার জমিগুলোতে ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাধ্য হয়েই আধাপাকা ধান কাটছেন চাষিরা। শিয়ালমারা হাওরের কৃষক ইসলাম উদ্দিন জানান, তাঁর ৯ কেয়ার জমির মধ্যে ৬ কেয়ারই পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আবহাওয়ার অবস্থা ভালো না, খুব ভয় লাগছে। তাই আধাপাকা ধানই কেটে ফেলছি। কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আমরা বড় বিপদে আছি।”
জলাবদ্ধ জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন চালানো সম্ভব না হওয়ায় একমাত্র ভরসা এখন শ্রমিক। তবে হাওরাঞ্চলে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। জোয়ালভাঙা হাওরের কৃষক ইলিয়াস মিয়া জানান, মেশিনের অভাবে এবং শ্রমিকের চড়া মূল্যে ধান কাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলায় মোট আবাদকৃত জমির মধ্যে ৪০ হাজার হেক্টর ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমির ধান এখনও আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে বাইরে থেকে শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় শ্রমিক সরবরাহ বাড়াতে বালুমহালগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকরা এখন কেবল বুক ভরা শঙ্কা নিয়ে প্রকৃতির কৃপা আর প্রশাসনের সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: