দালাল চক্রের প্রলোভনে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে পথে ঘুরছেন জগন্নাথপুরের কামরুল
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভিটেমাটিহীন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এক যুবকের নাম কামরুল মিয়া, যিনি এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়িছাড়া।
জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের কামরুল মিয়া ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে যুক্তরাজ্য যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় দালাল তানভীর আহমেদ খানের আশ্বাসে। এই টাকা জোগাড় করতে তিনি নিজের শেষ সম্বল বসতভিটা ও জমি বিক্রি করেন, পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়েক দফায় তানভীরের হাতে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ২৫ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। পরে তানভীর তাঁকে ভিসা ও টিকিট বুঝিয়ে দিলেও ২৪ অক্টোবর বিমানবন্দরে গিয়ে কামরুল জানতে পারেন, সব কাগজপত্রই জাল।
কামরুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “তানভীর আমাকে লন্ডনে পাঠানোর কথা বলে আমার সব টাকা মেরে খেয়েছে। এখন আমি ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের চাপে বাড়িছাড়া। সরকার সহযোগিতা না করলে আমি পথে বসে যাব।” কামরুলের স্ত্রী রচনা বেগমও এই প্রতারণার বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শুধু কামরুল নন, একই এলাকার সিরাজ আলীও তাঁর ছেলে ও ছেলের বউকে লন্ডন পাঠাতে গিয়ে এই চক্রের হাতে ৩৬ লাখ টাকা খুইয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তানভীর খান, তাঁর ভাই মুহিব উদ্দিন খান ও মালেক খান মিলে সিলেট শহরে ট্রাভেল এজেন্সি খুলে ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষকে প্রলোভন দেখাচ্ছে। গ্রামের সালিশি বিচারে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাল চেক ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত তানভীর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো মামলার হুমকি দেন। তবে প্রতারণার শিকার কামরুল মিয়া ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে এসব ভুয়া এজেন্সি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: