স্বপ্নের পথে সিলেট
সুরমার দুই তীরে ওয়াকওয়ে ও স্লুইস গেট নির্মাণের উদ্যোগ
সিলেটের বুক চিরে বয়ে চলা সুরমা নদীকে ঘিরে এবার নতুন স্বপ্নের বীজ বোনা হচ্ছে। শহরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় নির্মিত হবে ওয়াকওয়ে এবং স্থাপন করা হবে স্লুইস গেট।
নদীর সেই চিরচেনা ধারা, যেখানে একসময় নৌকা ভেসে যেত, পাড়ের মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল গল্প-গাথা—সেই সুরমাকেই নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনায় আশাবাদী নগরবাসী।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকে কেন্দ্র করে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে নদীতীর সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং নাগরিকদের জন্য হাঁটার উপযোগী আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সুরমা শুধু একটি নদী নয়, এটি সিলেটের ইতিহাস, আবেগ আর পরিচয়ের অংশ। এই নদীকে ঘিরে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা নগরকে নতুনভাবে সাজাবে।”
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি স্লুইস গেট স্থাপন ও নদীতীর সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সুরমাকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরপ্রান্তরে রূপান্তর করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, সুরমার দুই তীর হয়ে উঠবে মানুষের হাঁটাহাঁটি, আড্ডা আর শান্তির এক নতুন ঠিকানা—যেখানে নদী আবারও ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণ।
নদীকে ঘিরে এ উন্নয়ন পরিকল্পনা সিলেটের ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন অনেকে। সময়ের সঙ্গে বদলাবে নগরের চেহারা, তবে সুরমার ঢেউয়ে মিশে থাকবে শহরের পুরোনো আবেগ।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: