শান্তিগঞ্জে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ২, আশঙ্কাজনক ৩
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে কোনোভাবেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল; মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি রক্তক্ষয়ী সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহসানমারা সেতু এলাকায় একটি দ্রুতগামী দূরপাল্লার বাস ও সিলেটগামী লেগুনার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই সর্বশেষ মর্মান্তিক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে একই মহাসড়কের পাগলা মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে সুনামগঞ্জমুখী একটি দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হলে লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জাহের (৩০) নামের এক যাত্রী নির্মমভাবে নিহত হন; নিহত জাহের সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন নারায়ণপুর গ্রামের আলফা উদ্দিনের ছেলে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় লেগুনার আরও ৩ যাত্রী চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে; আহতরা হলেন—শান্তিগঞ্জ থানাধীন জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা (স্থানীয় উচ্চারণে গা আগলে) গ্রামের মৃত মুছলেছ মিয়ার ছেলে আব্দুল জাহান (৪০), তাঁর শিশু কন্যা লুৎফা বেগম (৮) এবং ছাতক থানাধীন জাউয়া বাজার ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে তৌরিজ মিয়া। স্থানীয় জনতা ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন; পরবর্তীতে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ পরিচালনার পাশাপাশি সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি সরিয়ে রক্ত পরিষ্কার করলে দীর্ঘক্ষণ পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে, ঘাতক বাসটি দুর্ঘটনার পরপরই বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সেটিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জব্দের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, আহসানমারা সেতু এলাকায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এবং গত রাতে পাগলা এলাকায় পৃথক স্থানে সবমিলিয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন; পুলিশ নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘাতক বাসটিকে সনাক্ত করতে অভিযান শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এই আঞ্চলিক মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এর আগে গত ১৫ এপ্রিল পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং গত রাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ দুপুরে আবারও মহাসড়কে ঝরল তাজা প্রাণ। একের পর এক এই প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, মহাসড়কে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন দূরপাল্লার বাসের বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও বড় ধরণের বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: