ঈদের আগে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে সুনামগঞ্জে হোটেল শ্রমিকদের বিক্ষোভ
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র বাকি কয়েকদিন। দেশজুড়ে যখন উৎসবের আমেজ, তখন বকেয়া বেতন ও আইনানুগ উৎসব বোনাসের দাবিতে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন সুনামগঞ্জের হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বেকারি শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার বিকেলে শহরের রায়পাড়ায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল, রেষ্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি নং চট্র-২৮৮৩)।
বুধবার বিকেল ৬টায় রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মুখ হতে শ্রমিকরা লাল পতাকা হাতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। পরে মিছিলটি পুনরায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এসে এক জরুরি আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ যখন ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন হোটেল খাতের শ্রমিকরা বরাবরের মতোই এক চরম অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মুখোমুখি। শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে মালিকপক্ষ বছরের পর বছর মুনাফার পাহাড় গড়ছে, বাজারের সবচেয়ে বড় পশুটি কিনে মহাধুমধামে ঈদ উদযাপন করছে। অথচ যাদের অক্লান্ত শ্রমে এই প্রাচুর্য, সেই অবহেলিত শ্রমিকদের তাদের আইনি ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত)-এর ধারা ২ (২ক) এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধি-২০১৫ এর বিধি-১১১ (৫) অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শ্রমিকের জন্য উৎসব বোনাস পাওয়া বাধ্যতামূলক। আইন থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর ঈদ এলে হোটেল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আর বোনাসের জন্য রাস্তায় নামতে হয়, মালিকদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিতে হয়। এটি দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের অবমাননা। শ্রমিকদের এই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অসহায়ত্বের কথা বলার একমাত্র অবলম্বন এখন রাজপথ।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া, জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান, প্রচার সম্পাদক আল আমিন, সংগঠনের সক্রিয় সদস্য মতিউর রহমান ও সৌরভ মালাকার প্রমুখ।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সুরঞ্জিত দাস স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল মালিক সমিতির প্রতি তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সমাবেশ থেকে অনতিবিলম্বে সকল হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বেকারি শ্রমিকের বকেয়া মজুরি এবং শতভাগ ঈদ বোনাস পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ সাফ জানিয়ে দেন, ঈদের ছুটির আগেই যদি প্রতিটি শ্রমিকের পকেটে তাদের কষ্টের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া না হয়, তবে সুনামগঞ্জের সমস্ত হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সেক্টরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ও ধর্মঘটসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর ফলে উদ্ভূত যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
প্রীতম দাস/এআর
মন্তব্য করুন: