কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষ দখল করে শিক্ষিকার বসতবাড়ি: তদন্তের নির্দেশ ইউএনও'র
Led Bottom Ad

কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষ দখল করে শিক্ষিকার বসতবাড়ি: তদন্তের নির্দেশ ইউএনও'র

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

২০/০৫/২০২৬ ২০:৩৭:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে দখল করে পরিবার ও আসবাবপত্র নিয়ে স্থায়ীভাবে এক সহকারী শিক্ষিকার বসবাসের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওঠা এমন নজিরবিহীন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক মহল ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে; যার ফলে বিদ্যালয়ের পবিত্র শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ক্লাসে এসে মারাত্মক বিব্রতকর ও নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য ও মাঠপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা, চোখধাঁধানো সৌন্দর্য এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষা বিভাগের কাছে অন্যতম এক আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রশংসিত হয়ে আসছিল; চারপাশের মনোরম সবুজ প্রকৃতি, পরিপাটি সাজানো শ্রেণিকক্ষ, প্রধান ফটকের ফুলের বাগান ও গোছানো পাঠদান পরিবেশ মিলিয়ে এটি এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে সম্প্রতি এক শিক্ষিকার খামখেয়ালি ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে বিদ্যালয়টির সেই দীর্ঘদিনের সুনাম ও গৌরব এখন মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে; সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ উঠেছে যে, বিদ্যালয়ের দোতলার দ্বিতীয় শ্রেণির একটি নিয়মিত পাঠদানের কক্ষ সম্পূর্ণ জোরপূর্বক দখল করে সেখানে রীতিমতো সংসার পেতে বসবাস করছেন ওই বিদ্যালয়েরই একজন প্রভাবশালী সহকারী শিক্ষিকা। সরেজমিনে ও অভিভাবকদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ওই পাঠদান কক্ষের ভেতরে বিছানাসহ বিশাল খাট, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ও হাঁড়ি-পাতিলসহ যাবতীয় রান্নার সরঞ্জাম, আলমারি এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন সামগ্রী রাখার ফলে একটি শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক, সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের স্পষ্ট ভাষ্য, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি শ্রেণিকক্ষ বা ক্লাসরুম ব্যক্তিগত আবাসিক কাজে ব্যবহার করা কোনো নীতিমালায় বা আইনিভাবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না; এতে যেমন ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ধুলোয় মিশে যাচ্ছে, তেমনি প্রতিদিন পাশের রুমে থাকা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, পড়াশোনার মানসিকতা ও মনস্তত্ত্বেও চরম নেতিবাচক ও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সচেতন স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যালয়ের একদম কাছাকাছি বা আশেপাশে সামান্য টাকায় ভালো বাসা ভাড়া নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ ও লজিস্টিক সুবিধা থাকার পরও সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্রেফ টাকা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়কে নিজের পৈতৃক বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন ওই শিক্ষিকা; এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা অবিলম্বের ওই কক্ষটি অবমুক্ত করে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ও সংবেদনশীল অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে কালারাইবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি ও নিঃসংকোচে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা তাঁর অত্যন্ত ছোট সন্তানকে নিয়ে সম্পূর্ণ সাময়িকভাবে জরুরি প্রয়োজনে ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং মূলত ওই শিশুর দেখাশোনার সুবিধার্থে তাঁর সাথে একজন সহায়ক নারীও সেখানে থাকছেন; তবে বিষয়টি নিয়ে যেহেতু জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাই আমরা খুব দ্রুতই কক্ষের ভেতর থেকে খাট ও রান্নার সরঞ্জামসহ সকল ব্যক্তিগত আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে কক্ষটি আবার শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব।”

এই পুরো অনিয়মের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে আজই আমি এই দুঃখজনক বিষয়টি প্রথম জেনেছি এবং একটি সরকারি স্কুলের ক্লাসরুম দখল করে থাকার কোনো নিয়ম নেই; আমরা খুব দ্রুতই সরেজমিনে তদন্ত কমিটি পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করে এই বিষয়ে বিধি মোতাবেক কঠোর ও প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান এই নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “একটি পবিত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কোনো শিক্ষক কর্তৃক ব্যক্তিগত পারিবারিক কাজে বা বসবাসের জন্য ব্যবহার করা সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ ও সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক একটি বিষয়; এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে জড়িত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কঠোর ও লিখিত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad