মৌলভীবাজারে পিতার সরকারি অফিস পুত্রের দখলে

ক্ষুব্ধ সচেতন মহল, উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন

মৌলভীবাজারে পিতার সরকারি অফিস পুত্রের দখলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

০২/০৭/২০২৬ ১৩:৫২:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকুর সরকারি কার্যালয়কে 'পারিবারিক আড্ডাস্থলে' পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে তাঁর ছেলের বন্ধুবান্ধব নিয়ে সরকারি অফিসে আড্ডা ও অননুমোদিত বৈঠক করার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দপ্তরের এমন অপব্যবহারকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।


জনসাধারণের ঘাম ঝরানো করের টাকায় নির্মিত ও পরিচালিত একটি সরকারি কার্যালয়ের পবিত্রতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখা যেকোনো জনপ্রতিনিধির মৌলিক দায়িত্ব। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের অফিস মূলত জনগণের সেবাপ্রাপ্তি ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য নিবেদিত থাকার কথা। কিন্তু সেখানে জনগণের টাকায় কেনা এসি রুমে ও সরকারি চেয়ারে এমপির সন্তানের এই ধরনের প্রভাব বিস্তার এবং প্রমোদ আড্ডা সাধারণ মানুষের অধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


সংসদ সদস্যের ছেলের এই স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংসদ সদস্য কি নিজের ছেলেকে ক্ষমতার সমান্তরাল কেন্দ্রে বসিয়ে পরোক্ষভাবে দল ও প্রশাসনকে বিতর্কিত করছেন? একজন জনপ্রতিনিধির প্রশ্রয় ছাড়া সরকারি অফিসে এমন অনধিকার চর্চা অসম্ভব, যা তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নৈতিকতাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।


স্থানীয়দের মতে, অফিসটি যদি এমপির ব্যক্তিগত চেম্বার হতো, তবে সেখানে তাঁর পরিবারের যেকোনো আচরণের অধিকার থাকত। কিন্তু এটি যদি সরকারি অফিস হয়ে থাকে, তবে এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার এমন নগ্ন প্রদর্শন বন্ধ করে অবিলম্বে প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: