তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস
সুনামগঞ্জে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার
তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের বাস মালিক ও শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (৪ আগষ্ট) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পরিবহন মালিক—শ্রমিক সংগঠনের নেতা, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল (সার্বিক) সভাপতিত্বে বৈঠক হয়।
সভায় সুবিপ্রবি’র প্রক্টর ড. সেখ আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মো. সরফুদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সুবিপ্রবি’র সহকারী প্রক্টর মোহাই মিনুল ইসলাম, মো. নূর আমিন বিটু, মো. নূরে আলম মুন্না, মো. মারুফ চান, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হকসহ পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সুবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শুরুতেই সুবিপ্রবি’র প্রক্টর ড. সেখ আব্দুল লতিফ রবিবারে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সুনামগঞ্জ—সিলেট লোকাল বাসের স্টাফ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে রবিবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যা কোন মতেই কাম্য নয়। এই ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর মোহাই মিনুল ইসলাম, সদস্য সহকারী প্রক্টর মো. মারুফ চান, সহকারী প্রক্টর মো. নূর আমিন বিটু। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এসময় তিনি সবাইকে আন্তরিকতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাসে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন যেনো না হয় তাও বলেছেন। আমরা আশ্বস্ত হয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় সুনামগঞ্জের সম্পদ। এখানে এই এলাকার ছেলে—মেয়েরা পড়াশোনা করবে, তাই পরিবহন বাস মালিক—শ্রমিকদের আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। অন্যান্য দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দেওয়া হবে।
এর আগে সকালে কর্মবিরতি জন্য আন্ত:জেলা বাসসহ সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি প্রয়োজনে গমনকারী যাত্রীরা আটকা পড়েন। সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মবিরতি পালনকারী শ্রমিকরা পিকেটিং করায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসময় সীমিত আকারে সিএনজি মোটরসাইকেল চললেও বেশিরভাগ শ্রমিক কর্মবিরতি পালনকারীদের পক্ষে অবস্থান নেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার সুনামগঞ্জ শহর থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সুবিপ্রবি’র অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় ভাড়া নিয়ে ভাড়া নিয়ে হেল্পারের সাথে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শান্তিগঞ্জে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের মারধর করে ক্যাম্পাসে আটকে রাখে (শিক্ষার্থীরা) বলে অভিযোগ জানিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে রবিবার বিকাল ৩টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এসময় পুলিশ প্রশাসনের সাথে তাদের বৈঠকের পর অবরোধ তুলে নেয়া হলেও, কর্মবিরতি চালিয়ে যান মালিক—শ্রমিকরা।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ থেকে শান্তিগঞ্জের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীবাহী বাসের চালকের দ্বন্দ্ব, কথা কাটাকাটি এবং পরে ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জ—সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। এসময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সব ধরণের যান চলাচল।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: