বিয়ানীবাজারের আটশ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী পাল রাজবাড়ি

বিয়ানীবাজারের আটশ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী পাল রাজবাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার

০৭/০৮/২০২৬ ১২:১৫:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় আটশ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক নিদর্শন - পাল রাজবাড়ি। ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই পাহাড়-টিলাবেষ্টিত অঞ্চল একসময় পরিচিত ছিল ‘চন্দ্রপুর’ নামে। পরে পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠার পর অঞ্চলটির নাম হয় ‘পঞ্চখণ্ড’, যার সীমানা বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

পাল শাসনামলে এখানে গড়ে ওঠে প্রশাসনিক কেন্দ্র, আবাসিক প্রাসাদ ও জলব্যবস্থাপনার জন্য খনন করা হয় বারোপালের দীঘির মতো বড় জলাধার, যা আজও টিকে আছে। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট বিজয়ের পর পাল শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে রূপ নেয় জমিদারি প্রথায়, আর রাজবাড়িটি পরিচিতি পায় ‘পাল জমিদার বাড়ি’ নামে।

সময়ের সঙ্গে চন্দ্রপুর-পঞ্চখণ্ড নাম হারিয়ে এই এলাকা পরিচিত হয় ‘বিয়ানীবাজার’ নামে - যার উৎপত্তি স্থানীয় ভোরবেলার এক বাজার থেকে, যাকে বলা হতো ‘বিহানী বাজার’।

বর্তমানে রাজবাড়ির মূল স্থাপত্যের অধিকাংশই বিলুপ্ত; টিকে আছে কেবল একটি মন্দির অংশ ও কিছু ভগ্নাবশেষ, যা অনেকাংশে গাছপালায় ঢাকা। পাশের বারোপালের দীঘি এখন স্থানীয় ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। তবে স্থাপনাটি এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে সংরক্ষণ উদ্যোগ সীমিত। স্থানীয়ভাবে এটিকে ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad