দেবর-ভাবীর রশি টানাটানিতে উত্তপ্ত দিরাই বিএনপি
গত এক মাস ধরে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম আলাদা আলাদা ভাবেই চলে আসছে। পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলন,যৌথ সভা,অব্যাহতির সুপারিশ সহ পৃথক পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। তবে এখন তা প্রকাশ্যেই শুরু হয়েছে। যার ফলে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের মধ্যে ও দুরত্ব বেড়েছে। জুলাই কে স্মরণ করে দুই পক্ষ পৃথক পৃথক শোডাউন করার কার্যক্রম হাতে নিলে রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ৬ আগষ্ট দিরাই-শাল্লার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক জেলা আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী ছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমির হোসেন, ফারুক সর্দার, হুমায়ুন কবির তালুকদার,শাহ আলম,মজিবুর রহমান,সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। নাছির চৌধুরী বলেন যারা আলাদা সভা করবে তারা বিএনপির কেউ না তারা দলে বিভক্তি করে দলকে নষ্ট করতে চায় এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন আমি একা আমার কোন ভাই নেই। আমার বাসা ও ষড়যন্ত্র করে কেড়ে নেয়া হয়েছে। নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সহধর্মিনী পারভিন আক্তার চৌধুরীর অভিযোগ ২০২৫ সালে আমার স্বামীর ভীষণ অসুস্থতার খবর শুনে আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে আমার স্বামীর সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক আমাকে ও আমার দুই মেয়ে নাজিয়া চৌধুরী ও নাদিয়া চৌধুরীকে মারধর করে গভীর রাতে বৃষ্টির মধ্যেই বের করে দেয়। অবশ্য এ ব্যাপারে মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন আমাদের পারিবারিক বিরোধ আছে তবে মারধর করে বের করার বিষয়টি ঠিক না।
আগামী ৮ আগষ্ট দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির অপর অংশের ডাকা শোডাউন দিরাই বাগান বাড়ি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চলছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ও নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক ছাড়াও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট ইকবাল চৌধুরী সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। অবশ্য মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক দাবী করেন লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা এবং বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিযোগিতাকারী তাহির চৌধুরী পাভেল ও তাদের সাথে রয়েছেন। তিনি লন্ডন অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দলের অনেক নেতা কর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে দলে মূলত দেবর ভাবীর রশি টানাটানি চলছে। সংসদ সদস্য কে কার কব্জায় রাখা যায়। নাছির চৌধুরীর স্ত্রী কে বাড়ি থেকে বের করে দেবার পর থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
দলের অপর অংশের নেতাকর্মীদের বক্তব্য সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী কিছু পছন্দের নেতাকর্মীদের নিয়ে দল পরিচালনা করতে চাচ্ছেন ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলে বিভক্তি।
আর এ কারণেই দিরাই উপজেলা বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভক্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে
গত -৬ আগষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত এডভোকেট আব্দুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক যুগ্ম আহবায়ক কে বলা হয়েছে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে যেন দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ বিষয়ে মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন এই চিঠি আগে দুই পক্ষকে দেয়া হয়েছিল, যাতে কেউ আলাদা প্রোগ্রাম না করেন কিন্ত তারা মানেনি সুতরাং আমাদের পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। বিশাল শোডাউন হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি থাকবে।
ডিডি
মন্তব্য করুন: