সিলেট নগরে ট্রিপল মার্ডারের পর এবার ময়লার স্তূপে মিলল কাটা পা
সিলেট নগরের রায়নগরে নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মর্মান্তিক ওই হত্যাকাণ্ডের ঠিক একদিন পরই এবার আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কের পাশের এক ময়লার স্তূপ থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে নগরীর আম্বরখানা এলাকার ‘স্বাদ মিষ্টি’ দোকানের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে পায়ের অংশটি উদ্ধার করা হয়।
এর মাত্র একদিন আগেই নগরের রায়নগর এলাকায় নৃশংসভাবে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার (ট্রিপল মার্ডার) ঘটনা ঘটে, যা পুরো সিলেটবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই আতঙ্কের আমেজ কাটতে না কাটতেই জনবহুল আম্বরখানা এলাকায় বিচ্ছিন্ন মানব অঙ্গ পাওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়কের পাশের ময়লার স্তূপে সাদা কাপড়ে মোড়ানো মানুষের খণ্ডিত পায়ের পাতা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য খণ্ডাংশটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) ভোর সাড়ে ৫ টায় এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান প্রথম সিলেটকে জানান, ময়লার স্তূপে খণ্ডিত পা পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে খণ্ডাংশটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
খণ্ডিত অঙ্গটির রহস্য নিয়ে ওসি আরও বলেন, প্রথম দর্শনে এটি কার পা তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার (অ্যাম্পুটেশন) শেষে কেটে ফেলা পায়ের অংশ কেউ হয়তো ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত ময়লার স্তূপে ফেলে গেছে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই অঙ্গটির পেছনে কোনো অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এবং সার্বিক তদন্ত শেষ হলেই খণ্ডিত পাটির আসল পরিচয় ও তা ময়লার স্তূপে ফেলার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: