হবিগঞ্জে ছাত্রদল নেতা সাইফুল হত্যা : আড়াই বছর পর আটক এক
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রায় আড়াই বছর পর জসিম উদ্দিন নামে ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে বাহুবল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাকে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বাহুবল আলিফ সোবহান কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে। আটক জসিম উদ্দিন উপজেলার গগুলপুর গ্রামের হুসন আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চের শুরুতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সাইফুল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের প্রায় পাঁচ দিন পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল গ্রামে করাঙ্গী নদী থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সাইফুলকে হত্যার পর মরদেহ গুম ও হত্যার আলামত নষ্ট করতে বস্তায় ভরে নদী বা হাওড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে নিহতের বাবা আব্দুল মালিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হবিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘদিনেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।
হবিগঞ্জ ডিবির ওসি রঞ্জিত চন্দ্র আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দীর্ঘ তদন্তের পর সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ও এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: