চরম জনদুর্ভোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
জগন্নাথপুরে ২৫ কোটি টাকার ৫ সেতুর কাজ বাতিল
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ বাতিল হওয়ায় সেতুগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মূল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় সেতুগুলো নির্মাণে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের একটি প্যাকেজে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দে পাঁচটি সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেতুগুলো হলো- কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর সেতু,রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সেতু,পাটলি ইউনিয়নের লাউতলা সেতু,পাটলি ইউনিয়নের রসুলগঞ্জ সেতু,মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামের সেতু। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মোঃ জামিল ইকবাল’ প্রকল্পটির কাজ পেয়েছিল। গত ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় জুলাই মাসে তাঁদের চুক্তি বাতিল করা হয়। কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের সমাজকর্মী ফাহিম আহমেদ জানান, টেন্ডার হওয়ার পর আশায় থাকলেও এখন কাজের কোনো খবর নেই, যার ফলে বছরের পর বছর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল হক বলেন, ঠিকাদারদের নৈরাজ্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে আছে। ঘোষগাঁও সেতু ও শিবগঞ্জ সড়কের সংস্কার অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের জীবন অতিষ্ঠ।
পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সেতুগুলো নির্মিত না হওয়ায় ইউনিয়নের একটি বড় অংশের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বারবার যোগাযোগ করেও সুনির্দিষ্ট সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোঃ জামিল ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার সাড়াশব্দ না দেওয়ায় ৩০ জুনের পর চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। মূল প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মার্চে শেষ হয়ে যাবে বিধায় এই তহবিল থেকে আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরের মাধ্যমে সেতুগুলোর কাজ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
দুলন মিয়া/ আর আর
মন্তব্য করুন: