মৌলভীবাজারে বিএনপি সভাপতির জিম্মায় থাকা ৯ মহিষ উধাও,উদ্ধার ৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জিম্মায় রাখা ১৪টি মহিষের মধ্যে ৯টি উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ মহিষগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ টাকা। এ ঘটনায় জিম্মাদারসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট বড়লেখার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের জিম্মায় ১৪টি মহিষ রাখা হয়। এর আগে বিওসি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা গৌরনগর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে হিফজুর রহমানের গোয়ালঘর থেকে মহিষগুলো উদ্ধার করেন। হিফজুর রহমান দাবি করেছিলেন, তিনি বাজার থেকে মহিষগুলো কিনেছেন। এ দাবির স্বপক্ষে তিনি ক্রয় রসিদও দেখান।
পরে রফিকুল ইসলামের জিম্মায় মহিষগুলো হিফজুর রহমানের বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বিজিবি ও বড়লেখা থানা পুলিশের একটি দল মহিষ উদ্ধারে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বিয়ানীবাজার ৫২ বিজিবির সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জিম্মাদার রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় লোকজন ও সংবাদকর্মীরা হিফজুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তাঁর ভাইকে পাননি। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে বাড়ির পাশের একটি ক্ষেত থেকে একটি বড় মহিষসহ মোট পাঁচটি মহিষ উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি নয়টি মহিষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জিম্মাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, হিফজুর রহমানের কথায় তাঁর বাড়িতে মহিষগুলো রাখা হয়েছিল। সে এমন করবে, তা তিনি জানতেন না। যেকোনো মূল্যে বাকি মহিষগুলো উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হবে।
বিয়ানীবাজার ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, যাচাই-বাছাই করে মহিষ কেনার রসিদগুলো ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১৪টি মহিষ উদ্ধারে গিয়ে পাঁচটি পাওয়া গেছে। ভুয়া রসিদসহ এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জিম্মায় থাকা নয়টি মহিষ কোথায় গেল, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া পাঁচটি মহিষ বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং বাকি মহিষ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
হিফজুর রহমান / আর আর
মন্তব্য করুন: