হবিগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস, আতঙ্কে অভিভাবক

হবিগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস, আতঙ্কে অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২২/০৮/২০২৬ ১৪:২৮:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের দিগলবাক গ্রামে অবস্থিত দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছেন খুদে শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যেন দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার জন্য উপযোগী করা হয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রতিটি কক্ষই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ছাদসহ দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। আর এসব অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও আবার পিলারের লোহার রড বের হয়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

দিগলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে নির্মিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি স্কুলটিতে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন চারজন। স্থানীয়রা বলছেন, দিগলবাক গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টি দিগলবাকসহ আশপাশের গ্রামের খুদে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা নাজুক। শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকেন আতঙ্কে।

অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি বেহাল অবস্থা। খসে পড়ছে পলেস্তারা। বৃষ্টির দিনে পড়ছে পানি। যে কারণে ব্যাঘাত ঘটছে শিশুদের পড়ালেখায়। তারা বলেন, দ্রুত যেন সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় বিদ্যালয়টির।

সহকারী শিক্ষিকা কাকুলী রানী চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি রুমেই পলেস্তারা খসে পড়ে। যে কারণে শিক্ষার্থীসহ আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। তিনি বলেন, বৃষ্টির দিনে এখন রুমে ক্লাস করানোই দায়। কাকুলী রানী আরও বলেন, বিদ্যালয়ের এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। ফলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে।

দিগলবাক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হচ্ছে কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত বিদ্যালয়টি নতুনভাবে নির্মাণ না করা হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আগেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad