মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে ফাইল হাতে দালালদের মহড়া

সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার

মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে ফাইল হাতে দালালদের মহড়া

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৩/০৮/২০২৬ ০৪:১৮:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে ফাইল জমা দিতে গেলে সামান্য ভুলের দোহাই দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ফাইলই বাইরের দালাল চক্রের হাতে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে জমা হয়ে যায়। মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে এভাবেই চলছে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি। অফিসের বাইরে ওৎ পেতে থাকা দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়িয়ে সেবাগ্রহীতারা আবেদন জমা দিচ্ছেন। তবে সামান্য তথ্যগত ভুল বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে তাঁদের সরাসরি ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অথচ গেটের বাইরেই সারি সারি ফাইল হাতে অপেক্ষা করছেন দালাল চক্রের সদস্যরা। লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে মূলত এই দালাল চক্র পরিচালিত হচ্ছে।

পাসপোর্ট অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত সাধারণ ফি ৪,০২৫ টাকা, জরুরি ফি ৬,৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি ফি ৮,৬২৫ টাকা। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে না গেলে সাধারণ আবেদনেও ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে বাধ্য করা হয়। আর নাম বা ঠিকানা সংশোধনের মতো জটিলতা থাকলে সেই চুক্তির অংক গিয়ে ঠেকছে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকায়।

ভুক্তভোগী অলি আহমেদ বলেন, “আমি নিজে দুই দিন চেষ্টা করেও আবেদন জমা দিতে পারিনি। সামান্য ভুল দেখিয়ে বারবার ঘুরানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১,৫০০ টাকা বেশি দিতেই সঙ্গে সঙ্গে ফাইল জমা নিয়ে নেওয়া হলো।”

আরেক সেবাগ্রহীতা সায়েমন আহমেদ জানান, এনআইডির মূল কপি না থাকায় তাঁর আবেদন ফেরত দেওয়া হলেও, একই সমস্যা থাকা সত্ত্বেও পাশের এক ব্যক্তি দালালের মাধ্যমে ঠিকই আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রবাস ফেরতদের অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশন শিথিল হলেও পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের দালালমুখী নির্ভরতা ও হয়রানি কমেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দালাল প্রতিনিধি জানান, অনলাইনের সাধারণ ভুলত্রুটি তাঁরা সংশোধন করেন। কিন্তু জটিল ফাইল পাস করাতে তাঁদের অফিসের ভেতরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ রাখতে হয়। এর জন্য ফাইলপ্রতি ভেতের সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়, যা পরে গ্রাহকের কাছ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

তবে অফিসের ভেতরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোরাদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এখানে দালাল চক্রের উপস্থিতি সত্য, তবে আবেদনকারীর কাগজপত্র সঠিক থাকলে কাউকে ফেরত পাঠানো হয় না। আমাদের কোনো কর্মী অতিরিক্ত টাকা বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত—এমন প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকায় এখন অনিয়মের সুযোগ নেই।”

অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আঞ্চলিক অফিসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি আবেদন জমা পড়ে। দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad