সিলেটে ফের বিতর্কিত ‘মেলা বাবলু’র বাণিজ্য তৎপরতা
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সিলেটে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য ও মেলা দখলের পুরনো ছক ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য মেলার আড়ালে কোটি কোটি টাকার সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যবসায়ী এ এম মঈন খান (মেলা বাবলু) নতুন করে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে সুবিধা নেওয়া এবং ক্ষমতার ছত্রছায়ায় মেলা ও পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সখ্যকে কাজে লাগিয়ে বিগত ১৭ বছর ধরে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একচ্ছত্র মেলা বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বাবলু। সহায় সম্বলহীন মানুষকে সাহায্য করা, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের চিকিৎসা কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও সামাজিক কল্যাণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের দোহাই দিয়ে তিনি মেলার সরকারি অনুমোদন বাগিয়ে নিতেন। পরবর্তীতে অনুমোদন পাওয়ার পর লটারি, টিকিট বাণিজ্য এবং স্টল বরাদ্দের নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগ নিয়ে এক মাসের মেলার অনুমতি এনে তা তিন মাস পর্যন্ত টেনে নেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর। শুধু মেলাই নয়, একই মাঠ দখলের সুবিধার্থে কোরবানির সময় অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়েও এই চক্র বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন গভীর সুসম্পর্ক। তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সিলেটে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় আসামি হয়ে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই রূপ বদলে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। স্থানীয় এক সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর সহায়তায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি আবারও সিলেটে মেলা বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। বাবলু সিন্ডিকেটের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী মাসেই একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যানারে সিলেট অথবা বিয়ানীবাজারে মেলা আয়োজনের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে শুরু না হলেও অক্টোবর মাসেই মেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
একের পর এক মেলা বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মূলধারার ব্যবসায় চরম ধস নেমেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নানা প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে যখন সিলেটের ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখন এমন অননুমোদিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর মেলা আয়োজন স্থানীয় বাণিজ্যকে পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি বাবলুর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা অসাধু চক্রের সাহায্যে সিলেটের মূলধারার ব্যবসায়ীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন, তবে তা যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা হবে। অনতিবিলম্বে এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং এই মেলা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মঈন খান বাবলুর ব্যক্তিগত সেলফোনে কল এবং বার্তা প্রেরণ করেও সাড়া পাওয়া যায় নি।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: