সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ৯১৬ জন রোগী!

চিকিৎসাসহ ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত

সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ৯১৬ জন রোগী!

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৯/০৮/২০২৬ ১৯:২৮:৪৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ও স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শয্যা না পেয়ে শত শত রোগী ঠাঁই নিয়েছেন ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের সরু গলিতে। এর ওপর জেলায় হঠাৎ শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব চরম আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

​হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২৯ আগস্ট (শনিবার) পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৯১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই ১১৭ জন। বিপুল সংখ্যক হাম আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালের ৮ তলায় আইসোলেশনে রাখা হলেও সেখানে চরম স্থানসংকট তৈরি হয়েছে। ৮ তলার ওয়ার্ডটিতে বর্তমানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

​হাসপাতালে সিট না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া এক রোগীর স্বজন সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে আসার পর থেকে এক পাতা প্যারাসিটামল ছাড়া সরকারি কোনো ওষুধ পাইনি। বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে সব ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তার ওপর স্যালাইন বা ইনজেকশনের জন্য নার্সদের ডাকলে তারা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। আমরা কি মানুষ নই?

​হাম ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৮ তলায় না আছে ঠিকমতো জায়গা, না পাচ্ছি নার্সদের সহযোগিতা। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট দেখে নার্সদের ডেকে আনতে গেলে তারা দায়সারা আচরণ করেন। ডাকার বহুকাল পর এসে দূর থেকে দেখে চলে যান। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসা আর ওষুধ দুটোই বাইরে থেকে নিতে হয়, তবে সরকারি হাসপাতাল কিসের জন্য।

​সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ও হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আহমেদ হোসেন বলেন, হামের রোগী বাড়ার প্রধান কারণ এটি ছোঁয়াচে এবং বাসাবাড়িতে দ্রুত ছড়ায়। এর আগে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে হামের রোগী চিকিৎসাধীন ছিল, যার কারণেও সংক্রমণ কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে আমরা রোগীদের ৮ তলায় আইসোলেশনে নিয়ে এসেছি। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।

​চিকিৎসক সংকট ও সেবার মান প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, রোগীর অনুপাতে আমাদের চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। এর মধ্যেও আমাদের চিকিৎসকেরা সাধ্যের বাইরে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন। চিকিৎসাসেবার মান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে সামনে যদি রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে এবং আমরা ডাক্তারের সংখ্যা বাড়াতে না পারি, তাহলে সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের স্বজনরা অবিলম্বে হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নার্সদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad