ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীতে বালু লুটপাট ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীতে বালু লুটপাট ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

লতিফুর রহমান রাজু. সুনামগঞ্জ

৩০/০৮/২০২৬ ২৩:৩৪:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত ইজারাবিহীন ধোপাজান নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন থামানো যাচ্ছিল না। অবশেষে এই বালু-পাথর লুটপাট ও তছরুপ ঠেকাতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ।

এর আগে ধোপাজান নদী থেকে নদীমাতৃক সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকা জুড়ে বহু সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। মূলত রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুলিশের অগোচরে অবৈধ উপায়ে নদীর বালু ও পাথর তুলে রাতারাতি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে।


সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ বিভিন্ন সময়ে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বালু ও পাথর ভর্তি একাধিক বলগেট এবং 'পঙ্গপাল' নৌকা আটক করলেও মূল হোতারা বরাবরই অধরা থেকে গেছে। অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তাদের বড় অংশই সাধারণ নৌকার মাঝি ও দিনমজুর শ্রমিক। ফলে মূল অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিশেষ করে পুলিশ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অবৈধ নদী খনন ও বালু উত্তোলন ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসন এর আগেও বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর সুরমা ও ধোপাজান নদীর সংযোগস্থল 'ঝালোখালি' এলাকায় বাঁশের বেড়া বা ব্যারিকেড দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও লুটপাট না থামায় পরবর্তীতে পুলিশের উদ্যোগে দুই নদীর প্রবেশমুখে আড়াআড়িভাবে বড় একটি বলগেট বসিয়ে নৌ-চলাচল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসবের ধারাবাহিকতায় বালু-পাথর খেকোদের অপ তৎপরতা পুরোপুরি নস্যাৎ করতে এবার প্রযুক্তির সহায়তায় সিসি ক্যামেরা বসানো হলো।

বর্তমানে নদীর ডলুরা পয়েন্টে অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি সদর থানায় বসেই নদী এলাকার সার্বিক কর্মকাণ্ড ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, "ধোপাজান নদীর বালু-পাথর লুটপাট বন্ধ করতে পুলিশকে দীর্ঘ দিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মনিটরিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডলুরা এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি থানা থেকে নজর রাখা যাবে। আশা করছি, এই উদ্যোগের ফলে দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে।"

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad