হাওরের জলে নীরব পদচিহ্ন: নির্জনতায় টাঙ্গুয়া ছুঁয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

হাওরের জলে নীরব পদচিহ্ন: নির্জনতায় টাঙ্গুয়া ছুঁয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

রোদ্দুর ‍রিফাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১/০৮/২০২৬ ০৬:৫০:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মেঘালয়ের পাহাড়ি কোল ঘেঁষে ভেসে আসা নরম বাতাস আর নিঝুম প্রকৃতির বুকে নীরবে ধরা দিল এক অন্যরকম সফর। কোনো লাল বাতির ঝলকানি ছিল না, ছিল না হুইসেল কিংবা সাইরেনের হাঁকডাক। প্রশাসনের প্রটোকল আর লোকচক্ষুর অন্তরালে একান্তে জল-পাহাড়ের রূপকথা উপভোগ করতে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরে গেলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।


নটর ডেম কলেজের ৮৮ ব্যাচের পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতিকাতরতা কুড়াতে এই যাত্রা। শুক্রবার ও শনিবারের জন্য বুকিং করা হয়েছিল 'আটলান্টিস' নামের এক হাউজবোট। ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ট্রেনে চেপে, সেখান থেকে নিভৃত যাত্রায় আনোয়ারপুর নৌকাঘাটে এসে যখন তিনি বোটে উঠলেন, তখনও বোঝার উপায় ছিল না তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়। কিন্তু চোখ এড়ায়নি বোটের পরিচালক ইফতেকার হামিদের।


প্রতিমন্ত্রীকে চিনে ফেলে ইফতেকার যখন বিনম্র শ্রদ্ধায় বললেন—"স্যার, কীভাবে কী ব্যবস্থা করব? খাবারের বিশেষ কোনো পছন্দ আছে?" তখন প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠে ছিল স্রেফ একজন প্রকৃতিপ্রেমীর সাধারণত্ব। স্মিত হেসে বললেন, "আমি তো মন্ত্রী হিসেবে আসিনি ভাই! বন্ধুদের সঙ্গে পরিবারের মতো করে এই হাওরের রূপ উপভোগ করতে এসেছি।"


টাঙ্গুয়ার হাওরের শান্ত জলে রাত কাটালেন তিনি। জোছনা আর জলের মৃদুগুঞ্জনে হাওর যেন তাঁর কাছে মেলে ধরেছিল তার চিরায়ত সৌন্দর্য। তবে এই সৌন্দর্যের অন্তরালে প্রকৃতির ক্ষতগুলোও চোখ এড়ায়নি প্রতিমন্ত্রীর।


পরদিন ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় বড় হাউজবোট থেকে নেমে যখন ছোট নৌকায় করে এগোচ্ছিলেন, তখন দেখলেন সংকটাপন্ন এক স্থানে একটি হাউজবোট আইন অমান্য করে বাঁধা। তখনই বোটের মালিক আরাফাত হোসেনকে ডেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বললেন, "এভাবে যেন পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় কেউ না আসে। এই সুন্দর প্রকৃতিকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। আইন সবার জন্য সমান। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানাবেন।"


শনিবার একে একে ঘুরে দেখলেন টেকেরঘাট বাজার, নীলাদ্রি লেকের নীল জলরাশি আর লাল শিমুল বাগানের সবুজ ক্যানভাস। রূপের মোহে পড়ে মুগ্ধ প্রতিমন্ত্রী ফেরার মুহূর্তে কেবল একটি কথাই বলে গেলেন—"হাওর আর পাহাড়ের এই অপূর্ব মিলন যে কাউকে ব্যাকুল করবে। প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ অক্ষুণ্ণ রেখেই এখানে যোগাযোগের উন্নয়ন করতে হবে।"


শনিবার বিকেলে আনোয়ারপুর ঘাট থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গতকাল রোববার সকালে মেঠোপথ আর হাওরের মায়া পেছনে ফেলে রেলে চড়ে রাজধানীতে ফেরেন তিনি। পেছনে রেখে যান কোনো আড়ম্বর ছাড়া প্রকৃতির বুকে এক নীরব প্রেমিকের মুগ্ধ পদচিহ্ন।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad