কাশফুলের শুভ্র চাদরে বদলে গেছে শ্রীমঙ্গল
শরতের আগমনে নতুন রূপে সেজেছে চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, সবুজ চা-বাগান আর বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল— সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী এলাকায় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড়জুড়ে ফুটেছে দিগন্তজোড়া কাশফুল। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদা কাশফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভানুগাছ সড়কের বেলতলী সংলগ্ন বিশাল কাশবন বাতাসে দুলছে। কোথাও সবুজ চা-বাগানের ফাঁকে শুভ্র কাশফুল, কোথাও ছড়ার পাড়জুড়ে সাদা ফুলের সমারোহ। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের এই মেলবন্ধন তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক দৃশ্য।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে কাশবনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে এসেছেন অনেকেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দলবেঁধে ঘুরছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করছেন শরতের নির্মল সৌন্দর্য।
ঢাকা থেকে আসা নুসরাত বলেন, বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। এ সময় রাশি রাশি কাশফুল তার অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ায়। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতেই ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে।
ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড় ঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রস্ফুটিত সাদা কাশফুল প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের দৃশ্য শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা বলেন, দিগন্তজোড়া কাশফুলের মনোরম দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। শরৎ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণেও বড় ভূমিকা রাখছে।
শহরের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, শ্রীমঙ্গলের এই কাশবন প্রতি বছর প্রায় দুই মাস স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শরতের ঝকঝকে আকাশের নিচে বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল দেখতে নানা বয়সী মানুষ এখানে ছুটে আসেন।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: