শ্রীমঙ্গলে পৌনে ৬ কোটির সড়ক এখন ত্যক্ত, খোঁজ নেই ঠিকাদারের

শ্রীমঙ্গলে পৌনে ৬ কোটির সড়ক এখন ত্যক্ত, খোঁজ নেই ঠিকাদারের

শাহিন আহমেদ,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

০৪/১০/২০২৬ ১৪:৪৪:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রাধানগর-মোহাজেরাবাদ প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের পৌনে ছয় কোটি টাকার প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও মাত্র ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ফল চাষিরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, 'গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প'-এর আওতায় শ্রীমঙ্গলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, যার স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান চৌধুরী।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, প্রকল্প এলাকাটি অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানে কাজ চালানোর মতো কোনো শ্রমিক বা ঠিকাদারের প্রতিনিধি ছিলেন না। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া টানা ২৮ দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখাকে চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এলজিইডি।

এ ঘটনার পর কাজ ফেলে গায়েব হওয়ার অভিযোগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠান। নোটিশে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার লিখিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যাংকে রাখা ২৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা, চুক্তি বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কালোতালিকাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ থমকে থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী ও শামসুদ্দিন জানান, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে তারা সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ভাই পরিচয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, কাজটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনি আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে ‘সাব-কন্ট্রাক্টে’ দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপর থেকে তাদের দুজনেরই মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, "ছয় কিলোমিটার সড়কের মাত্র ২০ শতাংশ অগ্রগতি পাওয়া গেছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি বাতিল ও প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাকলিস্ট করার চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠানো হবে।"

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান প্রথম সিলেটকে জানান, জনভোগান্তি নিয়ে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে; দ্রুত বিকল্প উপায়ে বাকি কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ ফারাজাত জানান, ঠিকাদারের এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্রুতই নতুন দরপত্রের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার / প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad