শাল্লায় নীতিপ্রসূত নিয়ম ভেঙে শিক্ষক বদলি: আড়ালে অসচ্ছতার অভিযোগ

শাল্লায় নীতিপ্রসূত নিয়ম ভেঙে শিক্ষক বদলি: আড়ালে অসচ্ছতার অভিযোগ

নিশিকান্ত সরকার, শাল্লা

০৫/১০/২০২৬ ০১:১৯:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষক বদলি কমিটির বিরুদ্ধে। বিধি বহির্ভূতভাবে এই বদলি কার্যকর করায় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষা বিভাগ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাশখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রত্না রাণী দাসের প্রথম বদলির আবেদনটি নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় স্বয়ং বদলি কমিটিই তা বাতিল করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে একই শিক্ষকের দ্বিতীয় দফার আবেদন অনুমোদন দেয় কমিটি।

সরকারি নীতিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে—যেসব বিদ্যালয়ে অন্তত ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, কেবল সেখান থেকেই শিক্ষক বদলি করা যাবে। অথচ শাশখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৫ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে রত্না রাণী দাসকে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ৬৬ এবং শিক্ষক সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫ জন।

বদলি প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক রত্না রাণী দাস প্রথম সিলেটকে বলেন, "আমি আবেদনের মাধ্যমেই বদলি হয়েছি, এর বেশি কিছু জানি না।"

নীতিমালা লংঘনের এই ঘটনায় বদলি কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার) প্রথম সিলেটকে জানান, তিনি শুরু থেকেই নীতিমালার পক্ষে ছিলেন। অন্যান্য সদস্যরা কীভাবে এটি অনুমোদন করেছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন। অপর সদস্য ও বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল প্রথমে ফোন রিসিভ না করলেও পরে জানান, "মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বদলি করা হয়েছে।"

কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার কালীপদ দাস—যিনি বদলিকৃত শিক্ষক রত্না রাণী দাসের স্বামী, মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "বদলিটা যেকোনোভাবেই হোক হয়ে তো গেছে। আপনাদের মিষ্টি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করব।"

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব পরিমল কুমার ঘোষ গাফিলতি স্বীকার করে প্রথম সিলেটকে বলেন, "প্রথম আবেদনটি নিয়মবহির্ভূত থাকায় বাতিল হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় সবাইকে প্রজ্ঞাপন পড়ে শোনানোর পরও কমিটিতে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, ৫ জন শিক্ষকের স্কুল থেকে বদলির সুযোগ নেই। তবে শিক্ষকের একাধিক আবেদনের প্রেক্ষাপটে সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাশ জানান, "এই বদলিটি সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মবহির্ভূত। উপজেলা কমিটি কীভাবে এটি অনুমোদন দিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad