ছাড়ের নামে সিলেটে চলছে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদ
উৎসবের আবহ কিংবা সাধারণ কেনাকাটা—সিলেট অঞ্চলের নামীদামি শোরুম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিপণিবিতানগুলোতে এখন চোখে পড়ে চটকদার ‘বিশেষ ছাড়’ ও ‘আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের’ নজরকাড়া ব্যানার-ফেস্টুন। কিন্তু এই মূল্যছাড়ের আড়ালেই গোপনে পাতা হয়েছে ক্রেতা ঠকানোর সূক্ষ্ম ফাঁদ। অবশেষে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সিলেটে প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানা শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটাকে পুঁজি করে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন পোশাকের দোকানগুলোতে চলছে ২৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের প্রচার-প্রচারণা। তবে এই অফারের নামে চরম বিভ্রান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, পণ্যের গায়ে থাকা মূল ট্যাগ সরিয়ে আগে কৃত্রিমভাবে দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে নতুন স্টিকার লাগানো হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই বাড়িয়ে রাখা দামের ওপর তথাকথিত ‘ডিসকাউন্ট’ দেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবে আসল বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে ‘৫০% বা ৭০% ছাড়’ লেখা দৃষ্টিনন্দন ব্যানার ঝুলিয়ে ক্রেতাদের দোকানে আকৃষ্ট করা হলেও ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ছাড় কেবল নির্দিষ্ট কিছু অবিক্রীত বা নিম্নমানের পণ্যে সীমাবদ্ধ। বাইরে টাঙানো ফেস্টুনের ছাড়ের হারের সাথে ক্যাশ মেমো বা ক্যাশ কাউন্টারের আসল হিসাবের কোনো মিল মিলছে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করলে এই প্রতারণার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, পূর্ব জিন্দাবাজারের 'বন্ড' নামের একটি ফ্যাশন হাউজ বাইরে ৪০ শতাংশ মূল্যছাড়ের সাইনবোর্ড ঝুলালেও ক্যাশ কাউন্টারে পোশাক বিক্রির সময় ক্রেতাদের মাত্র ১০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছিল। হাতেনাতে এমন চটকদার চাতুরির প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করে।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা জানান, ক্রেতারা যাতে কেনাকাটা করতে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের শিকার না হন, সে জন্য বাজার তদারকি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: