শায়েস্তাগঞ্জ থানায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
হবিগঞ্জে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে ছাড়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার তদবির, ভিডিও ভাইরাল
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ছাত্রলীগের পুরনো কমিটিতে থাকা এনামুল হাসান নয়ন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করার পর তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান া ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে এনামুল হাসান নয়নকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটিতে সহসভাপতি ছিলেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে নয়নের মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানায় জড়ো হন। হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালামের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে বসে আন্দোলনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশের উদ্দেশে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম থানায় যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর বিকেল ৩টার দিকে এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকলেও নয়ন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনের সময় তিনি তাদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। তবে থানায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকায় প্রাথমিকভাবে নয়নকে আটক করা হয়েছিল। পরে আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ নিহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশি গুলিতে ৯ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৫ জুলাই বিবিসি বাংলায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: