‘প্রথম সিলেট’ কে এমরান চৌধুরী
সিলেট-৬ আসনের জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই,
অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। ছাত্র রাজনীতির উত্থাল সময়টাতে জাতীয়তবাদী রাজনীতিতে যার হাতে কড়ি। শিক্ষার সাথে রাজনীতির দীক্ষা। এই দুইয়ের সমন্বয় গঠিয়ে মেধা আর শ্রমে দ্রুত দৃষ্টিতে আসেন সকলের। রাজনৈতিক প্রতিভা আর সাংগঠনিক বিচক্ষণতার পুরস্কার হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হন সিলেট জেলা ছাত্রদলের। তারপর আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয় নি। দল ও বলকে পূঁজি করে গোটা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সংগঠিত করেন আপন প্রজ্ঞায়। একজন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতার প্রতিফলন গঠতে থাকায় এমরান আহমদ স্থান করে নেন অভিভাবক সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলে। বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদকের। সিলেটের জেলা বিএনপি কে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন,তিলে তিলে গড়ে উঠা এমরান চৌধুরী জুলাই আন্দোলনে সিলেট সম্মুখ সারীর একজন যোদ্ধা। তিনি নিজেও হন গুলিবিদ্ধ,। আন্দোলনের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার থেকে শুরু করে সমগ্র সিলেটের হামলা মামলা জর্জরিত নেতা কর্মীদের আইনি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যার ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক, গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার আনাচে-কানাচে যার রয়েছে প্রতিদিনের পথচলা, এলাকার মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকার নাম ইমরান আহমদ, একজন ক্রীড়া প্রেমী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের মানুষ হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। ইমরান আহমদের আরেকটি সফলতা সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম সদস্য হয়েই ক্রীড়াঙ্গনের কার্যক্রম কে তিনি গতিশীল করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমায় এবার তিনি প্রার্থী হতে চাচ্ছেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে। এমরান চৌধুরীর পক্ষে দীর্ঘদিন থেকে এমন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দলীয় অনুরাগী সমর্থক ও শুভাকাঙ্খিরা।
সিলেটের ১৯ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সিলেট-৬ আসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে প্রচুর সমস্যা থাকলেও উন্নয়নের উপযোগীতাও রয়েছে ব্যাপক। তবুও বারবার বঞ্চিত ছিল প্রবাসী অধ্যুষিত এই জনপদ। সিলেট-৬ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন আর সম্ভাবনার ষোলকলা পূরণ করতে প্রয়োজন একজন কর্মমুখী,দলবান্ধব এবং সুযোগ্য কর্মবীরের। সেই তালিকায় সকলের পছন্দের শীর্ষে নাম উঠে আসছে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর। একটি প্রগতিশীল,শিক্ষিত এবং সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে ছোঁয়া পায়নি কাঙ্খিত উন্নয়নের। রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ সেবার চরম অব্যবস্থাপনা এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের নাম। গেল ১৭ বছর ধরে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসী উন্নয়নের নামে প্রতারণা দেখেছে। বরাদ্দ এসেছে, কিন্তু সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
গোলাপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচন আসলেই আমাদের নানা প্রতিশ্রুতি শোনানো হয়। এ রকম শোনতে শোনতে গেল ১৭ বছরে হতাশার বুকে কেউ আলো জ্বালাতে পারে নি। আমরা এবার হতাশা কিংবা প্রতিশ্রুতি শোনতে নয়, চাই আমাদের স্বপ্নের কাঙ্খিত বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও এই আসনে বিএনপি থেকে আরও অনেকেই দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- তাদেরকে দুর্যোগ-দুর্বিপাক এবং দু:সময়ে আমরা কাছে পাইনি। সে হিসেবে যিনি তৃণমূল মানুষের ভাষা বোঝেন, মেশার চেষ্টা করেন, যোগাযোগ রাখেন সারাক্ষণ-তিনি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, একজন সম্ভাবনাময়ী কল্যাণধারার রাজনীতিবিদ হিসেবে নি:সন্দেহে তিনি অগ্রগন্য। তাই আমরা আশা করছি-দলীয় হাই কমান্ড জুলাই অভ্যুত্থানসহ এমরান চৌধুরীর বিগত কার্যক্রম বিবেচনায় রেখে সিলেট-৪ আসনের মানুষের উন্নয়নের জন্য এই নেতাকে মনোনয়র প্রদান করে জনগণের পাশে থাকবেন।
জানাগেছে বর্তমানে এমরান আহমদ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। আগামী সোমবার (৭ জুলাই) তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার জাতীয়তাবাদী পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কোষাধ্যক্ষ ও সিলেট জেলা জাসাসের সাবেক সদস্জযৗ সচিব জনাব জহির হোসেন বলেন,গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারকে উন্নত করতে হলে প্রথমে প্রয়োজন একটি শিক্ষিত এবং স্মার্ট জনগোষ্ঠী। যারা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত হয়ে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজের অবয়ব তৈরি করতে সমর্থ হয়। আর সেটি করতে হলে-সর্বাগ্রে জোর দিতে হবে শিক্ষা ক্ষেত্রে। ফলে একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে এই অঞ্চলকে আলোকিত করতে হলে প্রয়োজন শিক্ষা ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন। সেই উন্নয়ন যথাযথভাবে করা সম্ভব হলে মানুষ ফিরে পাবে বাসযোগ্য একটি অনুকুল পরিবেশ। ছাত্র রাজনীতি থেকে দেখেছি ইমরান চৌধুরী একজন জন ও কর্মীবান্ধব নেতা। বিগত জুলাই আন্দোলনে যার ভূমিকা ছিল সম্মুখ সারীর যুদ্ধা হিসেবে, অন্তর্বর্তী কালীন এই সরকারের সময়ও অনেক উন্নয়নমূলক কাজের তদবির করতে দেখেছি বিভিন্ন দপ্তরে এবং তিনি সফল হচ্ছেন। রাস্তা মেরামতসহ,স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার উন্নয়ন, ব্রীজ কালভার্ট নির্মানসহ বিভিন্ন কাজ তিনি আদায় করে নিয়েছেন নিজের যোগ্যতায়। জনগণের মনের ভাষা আর চাহিদা বুঝে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে এমরান চৌধুরীর মতো নেতার মধ্যে। তাছাড়া সংস্কৃতি অন্তপ্রাণ একজন শুদ্ধ মানুষের পক্ষেই রাজনীতি আর উন্নয়নে ইতিবাচক ধারা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সব মিলিয়ে এমরান চৌধুরীর কোন বিকল্প এই আসনে এখনো চোখে পাড়ে নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমরান চৌধুরীর হোয়াটসআপ নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি ‘প্রথম সিলেট’ কে জানান-‘দলের জন্য কাজ করাটাই আমার প্রথম কাজ। সেই কাজের স্বীকৃতি ভালো হলে দলই তখন মূল্যায়ন করবে। নির্বাচন করার বিষয়টি নির্ভর করে দলীয় মনোনয়নের উপর। আমি দলের পরীক্ষিত,লোক বিধায় দলের প্রতিই অনুগত এবং দলীয় সিদ্বান্তের উপরই নির্ভর করতে চাই। তিনি বলেন, আমি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা অবস্থায়ও সিলেট-৪ আসনের লোকজন আমাকে প্রার্থী হতে উৎসাহিত করছেন। একই অবস্থা স্বদেশের মাটিতেও। প্রতিদিনই সিলেট-৬ আসনের লোকজন আমাকে ফোন করে সেই তাগিদ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন থেকে আমি গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারে কাজ করে যাচ্ছি, আমি এলাকার জনগণের সেই উৎসাহ-উদ্দীপনাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। আমি দলীয় নমিনেশন যাকেই দেওয়া হোক না কেন ধানের শীষের পক্ষে ও জনগণের সুখে-দু:খে পাশে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।
এমরান চৌধুরী বলেন. বিগত শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষাক্ষেত্রকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিয়েছে। সুতরাং আগামীর রুচিশীল প্রজন্ম গড়ে তোলতে চাইলে নৈতিকতা ও শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তন করতে হবে। মিথ্যাচারের কল্পকাহীনি থেকে সত্যনির্ভর জ্ঞানচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধের অভাব রয়েছে। এই বিষয়টি প্রাধ্যান্য দিয়ে সকলের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পরবর্তী নির্বাচিত হলে, যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা পরিবর্তনে ব্যাপক অবকাঠামোগত সংস্কার ও নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন গেল ১৭ বছরে সিলেটে আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আন্দোলন চালিয়ে গেছি। হাজার হাজার নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন, অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমার পাহাড় তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তবুও আমাদের মনোবল ভাঙেনি। এই ত্যাগই প্রমাণ করে, বিএনপি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অগ্রণী শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের রায়েই অচিরেই এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ।
সিলেট-৬ আসন থেকে আরও অনেক প্রার্থী দল থেকে মনোনয়ন চায়-এ বিষয়ে তিনি বলেন,যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, সকলের প্রতি আমার সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। রাজনীতি যারা করে তারা সকলেই জনপ্রতিনিধি হয়ে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে চাইবে। এটাই স্বাভাবিক। আমার অবস্থান কারো বিরুদ্ধে নয় কিংবা বিদ্বেষাগার করা নয়। একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, আমার সকলেই জাতীয়তাবাদী রাজণীতির অনুসারী। বৃহৎ এই দলের একটি শৃঙ্খলা রয়েছে। সুতরাং দল যাকেই মনোনয়ন দিবে, সেই দিকেই ভোটাররা ধাবিত হবেন। আমিও ভালোবাসার জোর থেকে প্রত্যাশা করি অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষন করে দল আমাকেই সিলেট-৬ আসনের মানুষের সেবা করার জন্য মনোনয়ন দিবেন।
নিজ আসন সম্পর্কে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদেরই একজন প্রতিনিধি হয়ে আপনাদের সেবা করতে চাই। সেই সুযোগ যদি আমি পাই,তাহলে আমি আমার সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে আপনাদের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করবো। ইনশাআল্লাহ
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: