শঙ্কায় কৃষকরা
তিন সপ্তাহ পেরোলেও শুরু হয়নি বেশিরভাগ হাওর বাঁধের কাজ
নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরের বেশিরভাগ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনও শুরু হয়নি। যেসব হাওরে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানেও গতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, হাওরের পানি নামতে বিলম্ব হওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে দেরির কারণে তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা সহ কয়েকটি উপজেলার হাওরে সময়মতো বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। তবে পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
পাউবো সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৭০৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা। ১৫ ডিসেম্বর সব উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে সব প্রকল্পে কাজ শুরু করা যায়নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশন ও পিআইসি গঠন সংক্রান্ত জটিলতায় বাকি প্রকল্পগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব প্রকল্পে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে বাঁধ নির্মাণের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ১৫ শতাংশ।
তবে সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্পে এখনও কাজ শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা ওয়ার্ক অর্ডার পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বাঁধের কাজে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো বেশিরভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। যেসব প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানেও গতি খুবই ধীর। পাশাপাশি পিআইসি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন ও অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরবাসীর জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে।”
তবে পাউবো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “হাওরের পানির কারণে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগ প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: