জগন্নাথপুরে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষকরা
প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হাওরে হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধান আবাদ। জমি হালচাষ, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন ও রোপণ—সব মিলিয়ে কৃষকদের মধ্যে জমি আবাদে যেন প্রতিযোগিতা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরি সত্ত্বেও কৃষকরা দমে যাননি। গত বছর যেখানে ধান রোপণ শ্রমিকের মজুরি ছিল ৪০০–৫০০ টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে ৬০০–৭০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবুও প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পেয়ে অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিতে নেমেছেন।
হালচাষে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের চাহিদাও বেড়েছে। গত বছর প্রতি কেদার জমি হালের খরচ ছিল ৫০০–৬০০ টাকা, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। বাড়তি দাম দিয়েও ট্রাক্টরের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের।
এদিকে, হাওরের উঁচু জমিতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক অতিরিক্ত খরচ করে দীর্ঘ পাইপ লাইনের মাধ্যমে সেচযন্ত্র ব্যবহার করে জমিতে পানি সরবরাহ করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে আবাদে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গতি বাড়বে। তিনি বলেন, এ বছর উপজেলার ১২টি হাওর ও নন-হাওর এলাকায় মোট ২০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৫০ শতাংশ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: