অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটে ভোগান্তিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা
Led Bottom Ad

৫ বছরেও শেষ হয়নি হাসপাতাল নির্মাণ

অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটে ভোগান্তিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৮/০১/২০২৬ ১৬:১৯:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল ভবন নির্মাণের দীর্ঘসূত্রতা ও তীব্র শিক্ষক সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাঁচ বছরেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও বাস্তব প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভবিষ্যৎ চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় বারবার আন্দোলন করেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, হাসপাতাল চালু না হওয়া এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের অভাবে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মারাত্মক সংকটে রয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষায় ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং অত্যাবশ্যক হলেও প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক সূত্র জানায়, গণপূর্ত বিভাগের ধীরগতির কারণে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হতে আরও সময় লাগবে, যা শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত হাসপাতাল চালু ও শিক্ষক নিয়োগ না হলে তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ জন্য সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

গত বছরের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বশীলরা ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালু করে ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে ডিসেম্বর পার হলেও হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বিশেষ করে ডার্মাটোলজি, অর্থপেডিক্স ও রেডিওলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপকের ১২টি পদের মধ্যে ১০টি, সহযোগী অধ্যাপকের ২৫টির মধ্যে ১৭টি, সহকারী অধ্যাপকের ২৬টির মধ্যে ১৩টি এবং প্রভাষকের ২৮টির মধ্যে ৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাকিব বলেন, চারটি ব্যাচের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ক্লিনিক্যাল ক্লাস প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর তুলনায় শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় সেখানে উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নেই।

অন্যদিকে হাসপাতাল ভবন এখনও হস্তান্তর না হওয়ায় ইন্টার্নশিপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভির হোসেন বলেন, “শিক্ষার মৌলিক সুযোগ-সুবিধাই এখানে অনুপস্থিত। হাসপাতাল ও শিক্ষক সংকট যেকোনোভাবে সমাধান করতে হবে।”

সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ভবন হস্তান্তরের পর জনবল ও সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে।

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ ভূইয়া জানান, বর্তমানে কলেজে প্রায় ৫০ শতাংশ জনবল রয়েছে। বাকি জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad